বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০২:১০ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক : অন্যায়ভাবে অন্যের জমি জোর-জবর দখল করার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম কবির হাসানের বিরুদ্ধে। নিজ জেলায় কর্মরত হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের।
জেলার গলাচিপা থানার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের মোঃ হানিফ শিকদারের ছেলে ভুক্তভোগী এসএম ফারুক সিকদার জানান, অভিযুক্ত সিভিল সার্জন আমাদের প্রায় ৪০বছর পূর্বের সাবকবলাকৃত ভোগ দখলীয় সম্পত্তি বেদখল করিবার পায়তারা করে আসছে। জোরপূর্বক দখল করার উদ্দেশ্য ২০-২৫ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে জমির ধান কাটে এবং তাতে ডাল বুনে।
এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। সিভিল সার্জন নিজ এলাকায় কর্মরত হওয়ায় আত্মীয়-স্বজন ও সন্ত্রাসী বাহিনীকে ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। আইন কানুন কিংবা স্থানীয় সালিশ বিচারের তোয়াক্কাও করেন না বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
অসহায় পরিবারটির প্রশ্ন- দলিল যার জমি তার এই আইন কি শুধুই মুখে, নাকি সরকার এই আইন বাস্তবায়ন করবে?
এছাড়াও, সিভিল সার্জনের নিজ বাড়ির মোঃ রশিদ মোল্লাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। এলাকার সামসুদ্দিন মৃধা ও মতিয়ার রহমান মাস্টারের জমি জোরপূর্বক দখল করে পুকুর খনন, মোঃ আবুল কাশেম শিকদার, গোপাল চন্দ্র ভাট মাস্টার, সুদন চন্দ্র ভাট, মোঃ সামসুল হাক মাস্টার, মোঃ আজহার শিকদার, মোঃ জাফর শিকদার, মোঃ কাদের শিকদার, মোঃ ফজলে আলী শিকদার, মোঃ নজরুল ইসলাম মাস্টারগংদের জমি জোরপূর্বক দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণসহ স্থানীয় কালু মোল্লার বাড়িঘর, নাল সিকিস্তি অধিগ্রহণ করে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয়রা এসবের প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মামলা হামলা দিয়ে অযথা হয়রানি করে আসছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয়সূত্রে খবর নিয়ে আরও জানা যায়, অর্থের দাপটে নিজ জেলা পটুয়াখালীতে পোস্টিং নেন সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম কবির হাসান, গড়ে তুলেছেন অর্থের পাহাড়। গ্রামে তুলেছেন চার তলা ভবন, যার ব্যয় প্রায় ৮-১০ কোটি টাকা এবং চারুছিপাই বাজারে নির্মাণ করছেন আরেকটি ৫তলা বিশিষ্ট মার্কেট, যার মূল্য প্রায় ২৫-৩০ কোটি টাকা। সিএসও, (প্রকল্প পরিচালক, ইনমাস ময়মনসিং ও চট্টগ্রামে সাইক্লোটন ও পেট সিটি স্থাপন প্রকল্প) প্রকল্পের এবং পরমানু শক্তি কমিশনে পরমানু গবেষণার নামে সরকারি অর্থ লুট করে হাজার হাজার কোটি টাকা অর্জন করেন। ঢাকার কামরাঙ্গী চরে ডলফিন হাসপাতাল নামে গড়ে তুলেছেন দশ তলা ভবন, যার মূল্য প্রায় শত কোটি টাকা। সরকারি কর্মকর্তার পক্ষে এত অর্থের যোগান কিভাবে হয়েছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয়দের দাবী, এ অবস্থা জরুরি অবসান না হলে সাধারণ জনগণের দুঃখ দূর্দশার সীমা থাকবে না। নিজ জেলায় সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব না দিয়ে অন্যত্র পদায়নের দাবীও জানান স্থানীয়রা।
তবে এসকল অভিযোগের বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম কবির হাসানের সরকারি ও ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও পাওয়া যায় নি।